1. [email protected] : Abdur Razzak : Abdur Razzak
  2. [email protected] : admin :
  3. [email protected] : BDNewsFast :
  4. [email protected] : Abdul Jolil : Abdul Jolil
  5. [email protected] : Nazmus Sawdath : Nazmus Sawdath
  6. [email protected] : Tariqul Islam : Tariqul Islam
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

অপরুপ সৌন্দর্য ছোট্ট জনপদ সুসং দুর্গাপুর

  • আপডেট এর সময় : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৭৬৩ বার দেখা হয়েছে

ঘুরে আসুন বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার সর্ব উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোল ঘেসে নিরব দাড়ীয়ে ছোট্ট জনপদ সুসং দুর্গাপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো। সুসং দুর্গাপুরের দর্শীয় স্থানগুলো:

সুসং দুর্গাপুর :
নেত্রকোনার জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পদদেশের এক জনপদের নাম সুসং দুর্গাপুর। সেখানে বয়ে গেছে টলমলে জলের সোমেশ্বরী আর দিগন্ত রয়েছে সবুজে ছাওয়া পাহাড় ছোট একটি জায়গা তার সৌন্দর্যের যেন শেষ নেই। এখানে দেখার মতো আছে গারো পাহাড়, সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি, ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী ককালচারাল একাডেমি, টংক আনন্দোলনের স্মৃতিসৌধ, সাধু যোসেফের ধর্ম পল্লী, হাজং মাতা রাশিমণি স্মৃতিসোধ, সাদা মাটির পাহাড় , আত্রাখালি নদী রানীখং গির্জা।

গারো পাহাড় :
সুসং দুর্গাপুরের উত্তর শিমান্তে নলুয়াপাড়া, ফারংপাড়া, ডাহাপাড়া, ভবানিপুর, বিজয়পুর ও রানিখংসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গারো পাহাড় বিস্তার। এই পাহাড়ে আছে প্রচুর পরিমাণ শালগাছ। এই পাহাড়গুলো প্রাকৃতি সৌন্দর্যের মনোরম গাঁথা। প্রকৃতি তার সৌন্দর্য যেন উজাড় করে দিয়েছে এই গারো পাহাড় সাজানোর জন্য। পাহাড়-পর্বত, ছোট-ছোট নদী, পাহাড়ি ঝর্ণা, শাল গজারিসহ নানা জাতের গাছগাছালী, সৌন্দর্য মেশা উঁচু নিচু পথ ঘুরে ঘুরে দেখাতে দেখতে চলার মজাই আলাদা। সবুজে ঘেরা এই গারো পাহাড়ের উঁচু নিচু টিলার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে ঝরর্ণা। তার স্বচ্ছ জলরাশীতে নিজেকে দেখতে পাওয়া যায়। দুই পাহাড়ের মাঝে সমতলভূমিতে সবুজ শস্যক্ষেত। পাহাড়ের দুর্গমপথে চলাচল করে পাহাড়ি মানুষ গুলো। দুই পাহাড়ের মাঝে মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় ছোট-ছোট কুঁড়েঘর, সবুজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের ঝলমলে আলোর রশ্মী ও নীল আকাশ। এই সৌন্দর্য দেখলে যেকোনো পর্যটকের চোখ জুড়িয়ে যায়। এই এলাকায় বাস করে বিভিন্ন শ্রেণীর ক্ষুদ্র নৃ -গোষ্ঠী লোকজন। তার মধ্যে গারো, হাজং, কোচ, মরং উল্লেখযোগ্য।

ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি :
দুর্গাপুরের বাসস্টান্ডের পাশেই অঅবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর নানা নির্দশন সংরক্ষিত আছে। সসং দূর্গপুর ও তার আশেপাশের উপজেলা কলমাকান্দা, পূর্বধলা, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়ায় রয়েছে গারো, হাজং, কোচ, ডালু বানাই প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। এদের সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করার জন্য ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি।

সোমেশ্বরী নদী:
সোমেশ্বরী নদী স্বচ্ছ পানি আর ধু-ধু বালুচরের জন্য বিখ্যাত। সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় প্রবাহিত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া, বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝরনা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা একত্রিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীর সৃষ্টি। সাদা মাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস এ নদী। যা বর্তমানে কয়লাখনি হিসেবে পরিচিত।

রাশিমণি স্মৃতিসৌধ:
দুর্গাপুর বাজার থেকে বিজয়পুর পাহাড়ে যাওয়ার পথে কামারখালী বাজারের পাশে বহেরাতলীতে অবস্থিত রাশিমণি স্মৃতিসৌধ। সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ‘বগাঝরা’ নামক গ্রামটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী গ্রামগুলোর মধ্যে একটি। রাশিমণি সেই গ্রামের একজন প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন। ব্রিটিশ মহাজন ও জোতদারদের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। হয়ে উঠেন টংক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী।

সাদা মাটির পাহাড়:
দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া ও মাইজপাড়া মৌজায় বিজয়পুরের শসার পাড় এবং বহেরাতলী গ্রামে সাদা মাটি অবস্থিত। পাহাড় ও সমভূমিসহ এর দৈর্ঘ প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০০ মিটার। এখান থেকে চীনা মাটি সংগ্রহের ফলে পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গভীর জলাধার। পাহাড়ের গায়ে স্বচ্ছ নীল রঙের জলাধারগুলো দেখতে অত্যন্ত চমৎকা আত্রাখালি নদী
আত্রাখালি নদী সুসং দুর্গাপুর বাজারের উত্তর দিক দিয়ে সোমেশ্বরী নদী থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। কিছু দূর এগিয়ে সোমেশ্বরীর মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

জমিদার বাড়ি:
একসময় দুর্গাপুর ছিল সুসং রাজ্যের রাজধানী। ৩ হাজার ৩৫৯ বর্গমাইল এলাকা ও প্রায় সাড়ে ৯শ’ গ্রাম নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সুসং রাজ্যের রাজধানী ছিল এটি। বর্তমানে এটি নেত্রকোণার একটি উপজেলা। সোমেশ্বর পাঠক থেকে শুরু করে তার পরবর্তী বংশধররা প্রায় ৬৬৭ বছর শাসন করেন এ রাজ্য।

রানীখং গির্জা:
দুর্গাপুর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর সীমান্তে পাহাড়ের চূড়ায় রানীখং গির্জা অবস্থিত। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে বিরিশিরির সৌন্দর্য যেন অন্য মাত্রা পায়।

কিভাবে যাবেন :

সুসং দুর্গাপুর বাজার থেকে রিকশা বা মোটরসাইকেল নিয়ে সোমেশ্বরী নদীপার হয়ে গারো পাহাড়, সাদা /গোলাপি পাহাড়, নীল / সবুজ পানির লেক ঘুরে দেখা যাবে। আরো দেখা যাবে বাংলাদেশ – ভারতের সীমান্ত। সেখান থেকে রিকশা আথবা মোটরসাইকেল করে সারাদিনের জন্য ঘুরে আসতে ৪০০-৮০০ টাকা ভারা লাগবে।

থাকা খাওয়া :
সুসং দুর্গাপুরে বিভিন্ন মানের গেস্ট হাউজ আছে। ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি গেস্ট হাউজ, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং ইয়ুম মেম খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন গেস্ট হাউজ রয়েছ যার রুম ভারা ৭৫০টাকা। এছাড়াও কিছু মধ্যে মানের গেস্ট হাউজ আছে এগুলোর রুম ভারা ১৫০-৪০০ টাকা করে। এখানে চাপা শুঁটকির ভর্তা থেকে শুরু করে মাছ ভর্তাসহ বাংলার সব খাবার পাওয়া যায়।

এই অপরুপ সৌন্দর্য সারিবদ্ধ সবুজ পাহাড় দিগন্ত, পাহাড়ি নদীর স্বচ্ছ পানি আর বিস্তৃত বালুচর দেখলে যে কারোর চোখ জুড়িয়ে যায়। সুসং দুর্গাপুরের পুরোটা ঘুরে দেখে এসেছেন bdnewsfast.com এর স্টাফ রিপোর্টার তারিকুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন

এই ক্যাটাগরির আরো কিছু খবর