1. [email protected] : Abdur Razzak : Abdur Razzak
  2. [email protected] : admin :
  3. [email protected] : BDNewsFast :
  4. [email protected] : Abdul Jolil : Abdul Jolil
  5. [email protected] : Nazmus Sawdath : Nazmus Sawdath
  6. [email protected] : Tariqul Islam : Tariqul Islam
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলার জমিদার দাবি করেন ছামাদ চাপরাশী

  • আপডেট এর সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৬ বার দেখা হয়েছে

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট প্রতিনিধি: ব্রিটিশ আমলের জমিদারি প্রথা বালিত হলেও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ  উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুস সামাদ হাওলাদার ওরফে সামাদ চাপরাশি নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলার সব জমির বৈধ মালিক দাবি করে জমিদার সেজে বসেছিলেন। অথচ ব্রিটিশ আমলের জমিদারি প্রথা বাতিল হয়েছে।

এ দাবি অনুযায়ী তিনি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে ছিলেন। যদিও পরে প্রশাসন এসব সাইনবোর্ড অপসারণ করেছে।

জানা গেছে, সামাদ চাপরাশি বিভিন্ন স্থানে ‘সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেট’ নামে অফিস খুলে বসেন। একশ্রেণির দালাল-টাউটকে কমিশন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে তিনি বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার সহজ-সরল কৃষককে টাকার বিনিময়ে ধরিয়ে দেন তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের জমির মালিকানা। দেওয়া হয় জমির মাঠ পরচা ও দাখিলা। এভাবে স্বঘোষিত জমিদার সামাদ চাপরাশি কয়েক বছর ধরে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পিসি বারইখালীতে বসে সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।

গত ২৪ আগস্টও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের পাঁচরাস্তা এলাকায় সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের অফিস খুলে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। সামাদ চাপরাশির এজেন্টরা মাইকিং করে মানুষদের জানিয়ে দেন শরণখোলা উপজেলার সব জমির মালিক সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের জমিদার আবদুস সামাদ হাওলাদার। এখন জমির মালিকানা পেতে হলে জমিদারের কাছ থেকে নিতে হবে বন্দোবস্তের মাঠ পরচা ও দাখিলা। এ অবস্থায় শরণখোলা উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। টনক নড়ে প্রশাসনের।

গত বুধবার বিকালে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন পুলিশ নিয়ে তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের অফিস সিলগালা করে নামিয়ে ফেলেন সাইনবোর্ড। শরণখোলায় অফিস সিলগালা করে সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলা হলেও তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের স্বঘোষিত জমিদার ও তার নিয়োগকৃত দালাল-টাউটদের কমিশন এজেন্টকে এখনো করা হয়নি গ্রেফতার।

এমনকি বন্ধ করা হয়নি মোরেলগঞ্জ পিসি বারইখালীর সদর দফতর।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, খবর পেয়ে তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের নামে স্থাপিত সাইনবোর্ড অপসারণ ও তাদের অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, সুন্দরবনসহ ৫ জেলার সব জমির মালিকানা দাবি করে রাষ্ট্রদোহ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে শরণখোলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের নামে শরণখোলায় বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীন দেশে এখন আর কোনো জমিদারি প্রথা নেই। সব জমির মালিক সরকার। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হতে প্রচার চালাতে ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

এদিকে মোড়েলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাচ্চু জানান, তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের স্বঘোষিত জমিদার হতদরিদ্র সামাদ চাপরাশি তার ইউনিয়নের পিসি বারইখালী গ্রামের মৃত আকব্বর চাপরাশির ছেলে। পাঁচ বছর আগেও খালে জাল ধরে সংসার চালাতেন। সামাদ চাপরাশির দাদা আফসার আলী চাপরাশি ছিলেন মোড়েলগঞ্জের এসি লাহা এস্টেটের ব্রিটিশ জমিদারের ধানসাগর কাচারি বাড়ির পিওন। বছর চার আগে সামাদ চাপরাশি তার বাড়ির ট্রাংকে পাওয়া এসি লাহা এস্টেটের ব্রিটিশ জমিদার আমলের একটি বন্দোবস্ত কাগজ পেয়ে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলার সব জমির বৈধ মালিক দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন

এই ক্যাটাগরির আরো কিছু খবর