1. [email protected] : Abdur Razzak : Abdur Razzak
  2. [email protected] : admin :
  3. [email protected] : BDNewsFast :
  4. [email protected] : Abdul Jolil : Abdul Jolil
  5. [email protected] : Nazmus Sawdath : Nazmus Sawdath
  6. [email protected] : Tariqul Islam : Tariqul Islam
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

নওগাঁর ডিসির ‍দিন বদলের গল্প ফেসবুকে ভাইরাল

  • আপডেট এর সময় : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪৪৬ বার দেখা হয়েছে

নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) হারুন-আর-রশিদ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১.৫৪ মিনিটে ‘দিন বদলের গল্প’ এই শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন।

তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত স্ট্যাটাসটি ব্যপক সাড়া জাগিয়ে ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশে মধ্যদিয়ে ভাইরাল হয়েছে।

তার ফেসবুক থেকে নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হ’লো

গতকাল আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে। কলারকে জিজ্ঞাসা করি আপনার জন্য কি করতে পারি। তিনি বলেন নওগাঁর একটি অটো রাইস মিলে তিনি কাজ করেছেন এক মাস বিশ দিন। এরপর তিনি চার দিনের ছুটি চাইলে ছুটি না দেয়ায় কাজ ছেড়ে দেন। এক মাসের টাকা আগেই পেয়েছেন, কিন্তু বাকী বিশ দিনের টাকা দিচ্ছেনা।

আজ দেব কাল দেব করেছে, এখন বলে টাকা দেবেনা, মিলে গেলে মাইর দেবে। মিলের ম্যানেজারের নাম্বার সে আমাকে দেয়। তরুণ কন্ঠ এবং একেবারেই আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং আমাকে ভাই সম্ভাষণ করছিল। আমি তুমি সম্ভাষণে তাকে জিজ্ঞাসা করি আমার নাম্বার সে কোথায় পেল। বলল 333 নাম্বারে কল করে নিয়েছে।

ম্যানেজারকে একটু পরেই ফোন করি। তিনি বলেন স্যার আজ পাঠিয়ে দেন টাকা দিচ্ছি। ঘন্টাখানেক পরে ম্যানেজার সাহেব আমাকে ফোন করে ভাই সম্ভাষণে বলেন ”কোথাত থেকে বলছেন ভাই”। আমি বলি কিছুক্ষণ আগেতো কথা বললাম পরিচয় দিয়ে। আমি ডিসি নওগাঁ। উত্তরে তিনি বলেন, “ওতো ডিসির কাছে যাতেই পারবেনা, কি কন না কন”। আমি মনে মনে হাসি আর বলি আপনি কি ডিসির সাথে দেখা করতে পারেন। তিনি বলেন, “না আমিও পারিনা” আমি বলি কে কে দেখা করতে পারেন আর পারেন না, তার লিস্ট আপনার কাছে আছে? “না নেই”। আমি বলি আচ্ছা কাল ওকে যেতে বলেছি টাকাটা দেবেন, নাহয় কাল ওকেসহ ডিসি অফিসে আসেন। একটু পরে আবার ছেলেটা ফোন করে বলে ভাই কাল সকালে আপনাকেসহ ডেকেছে। আমি ওকে বলি তুমি কাল যাও টাকা দেবে। এরমধ্যে আরেকটি নাম্বার থেকে আমার পরিচয় জানতে চেয়ে ফোন আসে। আজ সকাল 10 টার দিকে ছেলেটি আবার ফোন করে বলে ভাই টাকা দেবেনা বলছে। আমি ডিসি, ফুড সাহেবকে বলি মিলের মালিক বা ম্যানেজারকে আমার কাছে আসতে বলার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলেটি আবার ফোন করে বলে সম্পূর্ণ টাকা পেয়েছে।

এই ঘটনাটিকে আমার বদলে যাওয়া বাংলাদেশের একটি খন্ড চিত্র বলে মনে হয়েছে। আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের অনেক দৃশ্য চোখে দেখি। ঘটনাটি এখানে পোস্ট করলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্য যে দিকটি ঘটনাটির মাধ্যমে আমার নিকট উদঘাটিত হল তা আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।


1) ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আমরা কতটা ভোগ করছি তার একটি ছোট্ট উদাহরণ এ ঘটনা। আজ একজন নিরক্ষর শ্রমিকও ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণ করছেন। 333তে ফোন দিয়ে ডিসির নাম্বার সংগ্রহ করতে না পারলে তার হয়তো ঘাম ঝরানো শ্রমের 20 দিনের মজুরি পাওয়াই সম্ভব হতোনা।
2) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলে যাওয়া মানসিকতা এ ঘটনায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। ডিসির কাছে এভাবে মানুষ সহজে পৌঁছতে পারে তা এখনো হয়তো অনেকে বিশ্বাস করতে চাননা। তাছাড়া মানুষের ধারনা ডিসির কাছে একটা কিছু বললে তিনি তার এডিসিকে বলবেন, এডিসি ইউএনওকে বলবেন। এভাবে তিন চারজন ঘুরে মেসেজ যাবে। ডিসি সরাসরি মানুষকে ফোন দিতে পারেন তাও মানুষ বিশ্বাস করতে চাননা।

এখানে দায়িত্ব নিয়েই বলতে চাই জেলা প্রশাসকগণের নিকট যে কেউ দেখা করতে পারেন, ফোন করতে পারেন। কারুর ভায়া বা মাধ্যম হয়ে ডিসিদের কাছে আসতে হয়না। এমনকি বুধবার এমন একটি দিবস যেদিন ডিসিগণ কোন অফিসিয়াল ট্যুর রাখেননা, মিটিংয়ে এটেন্ড করেননা। শুধুমাত্র জনসাধারণকে শোনার জন্য অফিসে অবস্থান করেন। আসুন আমরা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

নিউজটি শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন

এই ক্যাটাগরির আরো কিছু খবর