1. [email protected] : Abdur Razzak : Abdur Razzak
  2. [email protected] : admin :
  3. [email protected] : BDNewsFast :
  4. [email protected] : Abdul Jolil : Abdul Jolil
  5. [email protected] : Nazmus Sawdath : Nazmus Sawdath
  6. [email protected] : Tariqul Islam : Tariqul Islam
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

৩ রা ডিসেম্বর কাজিপুর হানাদার মুক্ত দিবস

  • আপডেট এর সময় : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪৫৩ বার দেখা হয়েছে

আজ ৩ রা ডিসেম্বর। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। যার ফলে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হঠতে শুরু করে কাজিপুর ছাড়তে বাধ্য হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে কাজিপুরে কয়েকটি স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে বাংলার সাহসী সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে তাদেরকে প্রতিহত করে।
১৭ নভেম্বর’৭১ (মঙ্গলবার) বরইতলার যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। দূর্গম বরইতলা গ্রামে মুক্তিবাহিনীরা আশ্রয় নেন। এই খবর রাজাকারদের মাধ্যমে হানাদার বাহিনীদের কাছে পৌছালে তারা গ্রামকে ঘেড়াও করে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী শিশুদের উপর অত্যাচার শুরু করে। শুরু করে হত্যা কান্ড।

মুক্তিবাহিনীরা স্থানীয় কমান্ডার প্রয়াত লুৎফর রহমান (দুদু) ও আব্দুস সাত্তারের যৌথ নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাক বাহীনির সাথে শুরু হয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর কয়েকজন আহত হলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। গ্রামের নিরিহ মানুষ, নারী, বৃদ্ধ, শিশুদের উপর অসহনীয় অত্যাচার শুরু করে। পুড়িয়ে দেয় গ্রামের সকল ঘর বাড়ি, চালায় ণরকীয় হত্যাযজ্ঞ। মুক্তিযোদ্ধা সহ নিরীহ সাধারণ মানুষ এমনকি মসজিদে ঈতেকাফরত ৩০ জন মুসল্লিদেরকে পিঠ বেঁধে গ্রামের উত্তর পার্শ্বে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, মুসল্লিদের নৃশংস হত্যার খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী উদগাড়ী কাচিহারা, মিরারপাড়া, মাথাইলচাপড়, আলমপুর, দুবলাই, গান্ধাইল ও বাঐখোলা গ্রাম থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এসে পাক হানাদারদের প্রবল বাঁধার সৃষ্টি করে। তাদের সাথে শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। এই যুদ্ধ চলে ঐদিন ভোর থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত অবিরামভাবে। এ যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ৬ সেনা এবং বাবু নামে এক স্থানীয় রাজাকার নিহত হয়। অপরদিকে হানাদারদের গুলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, সুজাবত ও রবিলাল দাস সহ গ্রামবাসি আব্দুর রহমান, সিরাজুল, পন্ডিতা, আব্দুল হাকিম, গোলজার হোসেন, মামুদ আলী ও তেছের আলী সহ ১০৪ জন শহীদ হন। তারপর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ক্রমান্বয়ে হানাদার বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়লে ২ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তিনদিক থেকে নরপশুদেরকে ঘিরে ফেলে। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে পাকিস্তানি নরপশু হানাদার বাহিনীরা ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভোরে কাজিপুর ছাড়তে বাধ্য হয়। শত্রু মুক্ত হয় কাজিপুর, বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন কাজিপুরের মুক্তি বাহিনীরা।

নিউজটি শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন

এই ক্যাটাগরির আরো কিছু খবর